Skip to main content

Posts

আঁধার রাতে

আজ আবার সেই মেঘলা দিন সকাল থেকেই আকাশের মুখ গোমরা হয়ে আছ । বেলা যতই বাড়ছে গুমোট ভাবটা আরও চেপে বসেছে । বেলা গড়াবার সাথে সাথে একাকিত্তও যেন বাড়ছে । কাছাকাছি কয়েকজন বন্ধুকে খবর দিতে তারাও রাজি হয়ে গেল , বিকেলে আমাদের বাড়িতে আড্ডা জমাবো । সন্ধে হওয়ার আগেই একে একে পৌছে গেল পলাশ , গনেশ , ছটাই . অনিল , বিনয় আর জয়রাম । এক এক করে যখন সবাই জড়ো হয়েছি, একথা সেকথার মাঝে মনে পড়ে গেল আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগের এক ঘটনা। তখন আমি আমার গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করি।সেদিনটাও ঠিক এরকমই মেঘলা ও বৃষ্টিভরা দিন ছিল।সন্ধে বেলায় চার পাঁচজন বন্ধু মিলে আড্ডা জমাবো । আমাদের আসরটা আরও জমিয়ে দিতে মা হাজির একথালা মুড়ি ও তেলেভাজা নিয়ে।আমারা দ্বিগুন উৎসাহ নিয়ে মুড়ি ও তেলেভাজা কাড়াকাড়ি করছি এমন সময় আমার দাদু আমাদের আসরটা দেখতে এসেছে। দাদু খুব সুন্দর গুছিয়ে গল্পো বলতে পারতো।তাই সবাই আব্দার করলাম দাদু আজ গল্পো বলতে হবে।দুই একবার বলতেই দাদু রাজি হয়ে গেল।‘গল্পো শুনবি, কি ধরনের গল্পো?’ আজ যেমন পরিবেশ আমরা সবাই একসাথে বলে উঠলাম ‘ভুতের গল্পো’।দাদু শুরু করে দিলো... ।        ...

মহালয়া কি এবং কেন

### মহালয়া কি এবং কেন ### আত্মা অবিনশ্বর অর্থাৎ আত্মার মৃত্যু নেই, এই তত্বের ওপর ভিত্তি করেই হিন্দুধর্ম এতযুগ ধরে তার গতি বজায় রেখেছে। পুর াণ অনুযায়ী, জীবিত ব্যক্তির পূর্বের তিন পুরুষ পর্যন্ত পিতৃলোকে বাস করেন। এই লোক স্বর্গ ও মর্ত্যের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। পিতৃলোকের শাসক মৃত্যুদেবতা যম। তিনিই সদ্যমৃত ব্যক্তির আত্মাকে মর্ত্য থেকে পিতৃলোকে নিয়ে যান। পরবর্তী প্রজন্মের একজনের মৃত্যু হলে পূর্ববর্তী প্রজন্মের একজন পিতৃলোক ছেড়ে স্বর্গে গমন করেন এবং পরমাত্মায় (ঈশ্বর) লীন হন এবং এই প্রক্রিয়ায় তিনি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের ঊর্ধ্বে উঠে যান। এই কারণে, কেবলমাত্র জীবিত ব্যক্তির পূর্ববর্তী তিন প্রজন্মেরই শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়ে থাকে; এবং এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। হিন্দু মহাকাব্য অনুযায়ী, সূর্য কন্যারাশিতে প্রবেশ করলে পিতৃপক্ষ সূচিত হয়। লোকবিশ্বাস, এই সময় পূর্বপুরুষগণ পিতৃলোক পরিত্যাগ করে তাঁদের উত্তরপুরুষদের গৃহে অবস্থান করেন। এর পর সূর্য বৃশ্চিক রাশিতে প্রবেশ করলে, তাঁরা পুনরায় পিতৃলোকে ফিরে যান। পিতৃগণের অবস্থানের প্রথম পক্ষে হিন্দুদের পিতৃপুরুষগণের উদ্দে...

মন্দিরের মাঝে মুলুটি

  “ দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া …..” কবির এই উক্তিটি আংশিক হলেও এখানে প্রজোয্য। বীরভূমের রামপুরহাটকে কেন্দ্র করে কতো যে দেব ভূমি বর্তমান আগে জানা থাকলেও আমার গ্রামের বাড়ি রামপুরহাটের মাত্র ১৫ কিমি দুরে হলেও অনেক কিছু অদেখা থেকে গেছে। এবার বাড়ি গিয়ে ঠিক হলো রামপুরহাট হয়ে ১৬ কিমি দুরে মুলুটি যাওয়া হবে। বীরভূম ও ঝাড়খন্ডের লাগোয়া দুমকা জেলার সুড়িচোয়া মোড়ে ৪ কিমি দুরে ইতিহাস প্রসিদ্ধ প্রাচীন ঐতিহ্যমন্ডিত পুরাতাত্বিক ও ধর্মীয় মহত্বে ভরা মুলুটি   গ্রাম।   পঞ্চদশ শতকের নানকর রাজের ( কর মুক্ত সাম্রাজ্য ) রাজধানী হিসেবে শিরোনামে আসে মালুটি গ্রাম। গৌড় সুলতান   আলাউদ্দিন হোসেন শাহ   এই গ্রামটি উপহার দেন গরীব ব্রাহ্মন সন্তান বসন্ত রায়কে। ওড়িশা থেকে লোক লস্করসহ ফেরার সময় বিশ্রামের কারনে এই অঞ্চলে থামেন এরপর বেগমের অতি প্রিয় এক বাজ পাখি উড়ে যায়। ঐ অঞ্চলের এক অতি দরিদ্র ব্রাহ্মণ বসন্ত রায় সুলতালের পোষা বাজপাখিটি ধরে ফেরত দেওয়ার জন্যে পুরষ্...